- মুক্তাঙ্গন - http://nirmanblog.com -

লাতিন ভাষার কথা : ৪৪

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর

 

চিকিৎসকবৃন্দ ও তাঁদের ভাষা

আজ অব্দি কতবার আপনাকে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এ-কথা শুনতে হয়েছে যে, ‘ও কিছু না, সামান্য ভাইরাস। দু’চারদিনের মধ্যে না সারলে একবার এসে দেখিয়ে যাবেন আমাকে’, অথবা, কপাল মন্দ হলে চিকিৎসক হয়ত বলেছেন: ‘আপনার এপেন্ডিসাইটিয হয়েছে, খুব দ্রুত অপারেশন করা দরকার।’ অথবা আপনার চিকিৎসক হয়ত কোনো ধরনের নিউরালজিয়া-র নিদান দিয়েছেন, এবং এনালজেসিকের শরণ নিতে বলেছেন? এসব কথায় এবং এরকম শত শত মন্তব্যে – যা কিনা প্রতিদিন হাসপাতালে এবং শল্যচিকিৎসায় শোনা যায় – ধ্রুপদী ভাষাগুলো থেকে নেয়া হাজারো শব্দ নিহিত রয়েছে। ‘Virus’ এসেছে লাতিন থেকে, যেখানে সেটির মানে কোনো প্রাণী যেমন সাপ বা কাঁকড়াবিছের বিষ, বা কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের নিঃসরণ যার ভেতর কোনো জাদুর বা ভেষজ গুণ রয়েছে বলে মনে করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্লিনি বলছেন নেকড়ের শরীর থেকে একটি ‘virus amatorium’ বা ‘প্রেমসুধা’ নিঃসরিত হয়। ‘Appendix’-এর মানে স্রেফ ‘appendage’ বা ‘বাড়তি জিনিস’ বা ‘উপাঙ্গ’, এবং সেটা ক্রিয়া ‘appendo’ বা ‘ঝুলে থাকা’-র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে এখন সেটা বিশেষ করে সেই মূল্যহীন অঙ্গটিকে বোঝায় যেটায় মাঝে মাঝে প্রদাহ হতে পারে, যেটা প্রবল যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে শরীরে এবং শল্যচিকিৎসার সাহায্যে সেটাকে অপসারণ করতে হতে পারে। ‘Neuralgia’, যার মানে ‘nerve pain’ বা, স্নায়ুর যন্ত্রণা, সেটা এসেছে গ্রীক দুই শব্দ ‘neuron’ বা ‘স্নায়ু’ এবং ‘algia’ মানে ‘যন্ত্রণা’ থেকে। আর, গ্রীক ভাষায় উপসর্গ a-/an- নেতিবাচক অর্থ বহন করে, যেমন ‘amoral’; কাজেই একটি ‘analgesic’ তাই যা যন্ত্রণা দূর করে। আসলে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রায় সমস্ত সমস্ত শব্দই এসেছে লাতিন বা গ্রীক থেকে। অবশ্য বিজ্ঞানের আরো অনেক পরিসরের ক্ষেত্রেও কথাটা সত্যি হলেও আমরা দেখবো যে চিকিৎসাশাস্ত্রের বিষয়টা বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে, কারণ সেখানে অগুনতি অপরিবর্তিত লাতিন শব্দ রয়েছে, যেমন ‘appendix’ ও ‘virus’। এই কিছুদিন আগেও ‘deménetia senilis’ বা ‘বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রংশ’ জাতীয় কথা ব্যবহার ক’রে রোগের নিদান লাতিনে লেখা খুব-ই সাধারণ একটি ব্যাপার ছিল চিকিৎসকদের জন্য। লাতিনে ‘senilis’ হচ্ছে স্রেফ বার্ধক্যর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষণ, যা কিনা ইতিবাচক বা নেতিবাচক দুই অর্থেই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা যেই না লাতিন থেকে কথাটির ইঙ্গায়িত রূপটিতে সরে এলেন – ‘senile dementia’ – তখনই নেতিবাচক অনুষঙ্গের ব্যাপারটি চলে এলো, যা কিনা ‘senile’ কথাটিতে এতো বছর ধরে সঞ্চিত হয়েছে। যার ফলে অভিব্যক্তিটি এখন এড়িয়েই চলা হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

বিশেষ করে চিকিৎসকেরা যে গোঁয়ারের মতো লাতিনেই আটকে রইলেন এতোদিন, তার একটা সরল ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা আছে। আমরা আগেই বলেছি যে চিকিৎসাশাস্ত্রে রোমকরা তেমন কিছুই আবিষ্কার করেনি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা গ্রীকদের আবিষ্কারের সংক্ষিপ্তসার তৈরি করেই ক্ষান্ত দিয়েছে। অথচ প্রাচীন যুগে গ্রীক চিকিৎসাশাস্ত্র ছিল খুবই আকর্ষণীয়: সঙ্গতি থাকলে যে-কোনো রোমকই বাড়িতে একজন গ্রীক চিকিৎসক রাখত। সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের তেমন একজন ছিলেন – গ্যালেন নামের এক ব্যক্তিগত চিকিৎসক, চিকিৎসা শাস্ত্রের ইতিহাসে যিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। গ্রীক ভাষায় বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন তিনি, এবং সুদীর্ঘকাল ধরে সেসব গ্রন্থ রীতিমত ব্যতিক্রমী রকমের প্রভাবসঞ্চারী ছিল। চিকিৎসাশাস্ত্রের বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই উনবিংশ শতক পর্যন্তও তিনি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব। গ্যালেনের শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি ছিল ‘দেহের চারটি রস তত্ত্ব।’ এই তত্ত্বের মোদ্দা কথাটা এই যে, একজন মানুষের স্বাস্থ্য নির্ভর করে তাঁর শরীরে কোন রসের প্রাধান্য বেশি সেটার ওপর। এই তত্ত্বকে অনেক সময় ‘the pathology of the houmours’ বলা হয়। ‘humours’-এর মানে হলো রস বা তরল, আর ‘pathology’ হচ্ছে ‘রোগবিদ্যা’, যা এসেছে গ্রীক ‘pathos’ মানে যন্ত্রণা বা রোগ থেকে।

এখন ইংরেজিতে ‘humour’-এর অর্থ একেবারেই ভিন্ন, কিন্তু সেটার আধুনিক অর্থ দেহজ রস বা তরলের ধারণা থেকেই এসেছে। দেহে যদি রসের সঠিক ভারসাম্য থাকে তাহলে একটা প্রসন্ন মেজাজের অধিকারী হবেন আপনি, মানুষজনের সঙ্গে ঠাট্টা রসিকতা করবেন, সুখী হবেন জীবনে। তো, গ্যালেন বর্ণিত দেহজ রসগুলো হচ্ছে শোণিত বা রক্ত (blood; লাতিনে, sanguin), শ্লেষ্মা (phlegm; লাতিনে, phlegma), পীতবর্ণ পিত্ত (yellow bile; লাতিনে chole) এবং কালো পিত্ত (black bile; লাতিনে, melaina chole)। শেষ তিনটে নাম গ্রীক, লাতিন সেগুলো ধার নিয়েছিল। তত্ত্বটির খানিকটা এখনো এই অর্থে টিকে আছে যে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন মেজাজের অধিকারী: আছে ‘sanguine type’ – আশাবাদী ধরনের লোক যাদের মধ্যে রক্তের প্রাধান্য; ‘phlegmatic type’ – ধীরুজ, ঢিলাঢালা, শান্ত স্বভাবের মানুষজন যাদের মধ্যে শ্লেষ্মার আধিক্য; ‘choleric type’ – পিত্তের বশ বদমেজাজী লোকজন; আর ‘malancholic type’ – বিষণ্ণ প্রকৃতির মানুষ, কালো পিত্তের সঙ্গেই যাদের বসবাস। মধ্য যুগের গোড়ার দিকে পশ্চিম ইউরোপে চিকিৎসাশাস্ত্র খুব একটা উল্লেখযোগ্য ছিল না; কিন্তু ১১০০ খৃষ্টাব্দের দিকে চিকিৎসাশস্ত্রীয় চর্চা শুরু হয়, এবং সেটা ইতালির সালের্নোতে প্রথম। ঝোঁকটা এসেছিল অংশত পুবের বাইযেন্টিয়াম থেকে, অংশত আরবদের কাছে থেকে যারা মধ্যযুগীয় বিজ্ঞানের অন্য অনেক দিকের মতো এই ক্ষেত্রেও অগ্রগামী ছিল । সালের্নোর শিক্ষকেরা তাঁদের চর্চা শুরু করেন গ্যালেনের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করেই, যাঁর লেখা লাতিনে অনূদিত হয়েছিল, এবং চিকিৎসাশাস্ত্রের পশ্চিমা ঐতিহ্যের সূচনা করেছিল।

বেশ কয়েক শতক খুব বেশি কিছু আর ঘটল না। তবে চিকিৎসকেরা তাঁদের গ্রীকপূর্বসূরীদের ধারণাগুলোতে শেষ মুহূর্তের কিছু সংস্কার সাধন করলেন, আর তা করতে গিয়ে বিশদ এক লাতিন পরিভাষা আবিষ্কার করলেন তাঁরা, যদিও তার মধ্যেও আদতে গ্রীক থেকে আসা প্রচুর শব্দ ছিল, স্পষ্টতই যা গ্যালেন এবং অন্যান্য গ্রীক লেখকের প্রভাবসঞ্জাত। তার একটা ফল হলো এই যে, প্রায়ই দেখা গেলো একই জিনিসের জন্য লাতিনে দুটি শব্দ রয়েছে। মূল শব্দ, আর যেটা গ্রীক থেকে ধার আনা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্নায়ু বা ‘nerve’ লাতিনে ‘nervus’। আর ইংরেজি শব্দটা লাতিন থেকে ধার নেয়া। কাজেই তিন অংশ বিশিষ্ট মুখের স্নায়ুকে লাতিনে বলা হয় ‘nervus trigéminus’। গ্রীক ভাষায় ‘nerve’ হচ্ছে ‘neuron’ আর সেখান থেকে লাতিন পেয়েছে ‘neurosis’, ‘neurasthenia’ আর ‘neuralgia’, যেগুলো সরাসরি চলে এসেছে ইংরেজিতে। কিন্তু কথা হলো, দুর্ভাগ্যক্রমে, এসব শব্দের ভাণ্ডার আর লাতিন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রোগীদের যে সব সময় খুব কাজে লাগে তা নয়। চিকিৎসকদের সম্পর্কে এই অভিযোগটি বারে বারে এসেছে যে – এমনকি এই অষ্টাদশ শতকেও – তাঁরা খুব-ই বিদ্বান, এবং তাঁদের কথাবার্তায় তাঁরা গাদাগুচ্ছের মার্জিত তাত্ত্বিক কথামালা মাখিয়ে দেন, কিন্তু অসুখ-বিসুখের ব্যাপারে তাঁরা তেমন কিছু করতে পারেন না। আর আসলেই ব্যাপারটি ঠিক তাই। পরিস্থিতিটা বদলাতে শুরু করে যখন চিকিৎসকেরা এই ধারণা পরিত্যাগ করেন যে প্রাচীন যুগের পণ্ডিত বা বিশেষজ্ঞরাই সবচেয়ে বেশি জানতেন, এবং তারপর তাঁদের নিজেদের পদ্ধতিগত গবেষণা শুরু করেন। এই ক্ষেত্রে একজন পথিকৃৎ ছিলেন বেলজীয় ভেসালিয়া, যিনি ষোড়শ শতকে মানব অঙ্গব্যবচ্ছেদ বিদ্যা নিয়ে অনুসন্ধানের একটি উপায় হিসেবে শবব্যবচ্ছেদ করতে শুরু করেন। সপ্তদশ শতকে উইলিয়াম হার্ভে নামে একজন ইংরেজ আবিষ্কার করেন কি করে দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয়, এবং নিজের আবিষ্কারটি তিনি ‘Exercitátio anatómica de motu cordis et sánguinis in animálibus’ বা, ‘প্রাণীর হৃৎপিণ্ড ও রক্তের বিচলন সম্পর্কিত একটি অঙ্গব্যবচ্ছেদ্গত প্রবন্ধ’ এই জাঁকালো নামের একটি লেখায় প্রকাশ করেন। অতএব, পর পর বেশ দ্রুত আরো কিছু আবিষ্কার সংঘঠিত হলো, এবং ধীরে ধীরে, যদিও বেশ দেরি করে, উদ্ভাবিত হলো রুগ্‌ণ মানুষের চিকিৎসার নতুন নতুন সব উপায়।

এই নতুন পরিবর্তন কিন্তু ভাষার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনল না। উদ্ভাবনকর্তারা লাতিনেই লিখলেন, আলাপ-আলোচনা চালালেন নানান বিষয় নিয়ে, ঠিক যেমনটি তাদের পূর্বসূরীরা করেছিলেন, তাঁদের আন্তর্জাতিক সহকর্মীদের মধ্যে তাঁদের ধ্যান-ধারণা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার জন্য যেটা আসলে খুব দরকার ছিল। এছাড়া, চিকিৎসাশাস্ত্রীয় পরিভাষা জাতীয় ভাষাগুলোতে তর্জমা করাও দুরূহ ছিল। চিকিৎসকদের মধ্যে পাণ্ডিত্যপূর্ণ সারস্বত ঐতিহ্য বরাবর-ই খুব জোরালো ছিল, কাজেই তাদের পেশাগত ভাষা হিসেবে তাঁরা লাতিনেই থিতু রইলেন দীর্ঘ দিন ধরে। অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত চিকিৎসকদের নিজেদের সাথে লাতিনেই কথা বলাটাই খুব স্বাভাবিক ছিল। আর ব্রিটেনে এই বিংশ শতকের মাঝামাঝি-ই কেবল চিকিৎসাশাস্ত্রের শিক্ষার্থী হওয়ার জন্য লাতিন জানার প্রয়োজন অবসিত হয়।

নিঃসন্দেহে দিন এখন বদলেছে অনেক, কিন্তু চিকিৎসাশাস্ত্রীয় ভাষা সেই আগের মতোই লাতিন ও গ্রীক শব্দরাজীতে পরিপূর্ণই থেকে গেছে। সেকারণে চিকিৎসকদের এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীকে শত শত বা হাজার হাজার এমন সব বিশেষ শব্দ শিখতে হয় যেগুলোর সাথে হয়ত তাঁদের মাতৃভাষার কোনো সম্পর্কই নেই। কাজটা পরিশ্রমসাধ্য, সন্দেহ নেই, কিন্তু সুবিধেজনক। যে কোনো বিশেষায়িত বিষয়ের নিজস্ব পরিভাষা থাকা বাঞ্ছনীয়, এবং, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দেহের সমস্ত পেশীর নাম থাকাটা একজন চিকিৎসকের কাছে খুবই জরুরী একটা ব্যাপার। ভাষা যা-ই হোক না কেন, সব মানুষের পেশীই এক, আর কেবল চিকিৎসক এবং অন্যনান্য বিশেষজ্ঞদের-ই দায় থাকে বেশীরভাগ পেশীকে সেগুলোর নাম ধরে চিহ্নিত করার, বা সেগুলোর কথা বলবার। এই শব্দগুলো দৈনন্দিন জীবনের ভাষায় ব্যবহার করা হয় না। কাজেই প্রতিটি ভাষার জন্য সেগুলোর আলাদা নাম উদ্ভাবন করাটা অকার্যকর যেমন হবে তেমনি বিবেচকের কাজ-ও হবে না। একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক পরিভাষা বরং ভুল বোঝাবুঝি ও বিভ্রান্তি এড়াতে সাহায্যই করবে বেশি।

এসব শব্দকে লাতিন আর গ্রীক ভাষা থেকেই যে আসতে হবে তা নয়, কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চিকিৎসাশাস্ত্র যেভাবে বিকশিত হয়েছে তাতে এমনটাই পেয়েছি আমরা, এবং এখন আর তা বদলাবার দরকার নেই। সত্যি বলতে কি, একটা সুবিধের ব্যাপার হচ্ছে লাতিন বা প্রাচীন গ্রীক কোনো ভাষাতেই কেউ আর কথা বলে না এখন, যার মানে হলো, কোনো বিশেষ দেশের ভাষাকে ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক পরিভাষাটি গড়ে উঠেছে এমন দাবি করে দেশগুলো কোনো অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। প্রতিতুলনায় ইংরেজির কথা ভাবা যাক: কম্পিউটার সায়েন্সের মতো সাম্প্রতিক একটি বিষয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবহার কিন্তু সেই ভাষাটিকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।

যাঁদেরকে এসব প্রতিশব্দ শিখতেই হয় তাঁরা যদি খানিকটা লাতিন জানেন তাহলে নিঃসন্দেহে তাঁদের সুবিধেই হয়। এমনকি এই বইটিতে স্বল্প মাত্রায় লাতিনের যতটুকু পাওয়া যাবে সেটাও বেশ কিছু শব্দ বুঝতে সহায়তা করবে। যদি আপনার জানা থাকে যে ‘natus’ মানে ‘born’, আর ‘prae’ মানে ‘before’ তাহলে এটা অনুমান করা আপনার জন্য কঠিন কিছু নয় যে ‘prenatal damage’ মানে হলো শিশুর জন্মের আগে তার শরীরের হওয়া ক্ষতি। অবশ্য, চিকিৎসাশাস্ত্রীয় শব্দভণ্ডারের পুরোটা ব্যাখ্যার জন্য সে বিষয়ক একটা বইয়ের দরকার হবে। এধরনের বই আছেও বটে, কিন্তু সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ এখানে নেই। যদিও চিকিৎসাশাস্ত্রীয় শব্দভাণ্ডারে লাতিন (ও প্রাচীন গ্রীক) দিব্যি বহাল তবিয়তে রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও থাকবে। একই কথা প্রযোজ্য অন্যান্য জ্ঞানকাণ্ড সম্পর্কেও।

 

পরবর্তী অধ্যায়: লিনীয়াস ও লাতিন [১]

১ Comment (Open | Close)

১ Comment To "লাতিন ভাষার কথা : ৪৪"

#১ Pingback By লাতিন ভাষার কথা : ৪৩ | জি এইচ হাবীব On ১৮ december ২০১৫, friday @ ১১:৪১ অপরাহ্ন

[…] পরবর্তী অধ্যায় : ‘চিকিৎসকবৃন্দ ও তাঁদের ভাষা’ […]